কানসাস: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কট্টর রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত ‘রেড স্টেট’ কানসাসে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ৯৪ বছরের খরা কাটিয়ে এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেট আসনে জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের এই অভাবনীয় জয়কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের প্রথম দুই বছরের নীতি ও নেতৃত্বের ওপর মার্কিন জনগণের এক বড় রাজনৈতিক ধাক্কা এবং কড়া জবাব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফলে দেখা গেছে, কানসাসের ওই হাই-ভোল্টেজ আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রভাবশালী যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন নিজেকে একজন স্বাধীনচেতা ও মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট হিসেবে ভোটারদের কাছে তুলে ধরেন। দ্য হিলের খবর অনুযায়ী, ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা অবস্থায় হ্যামিল্টন তার প্রতিদ্বন্দ্বী মার্শালকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে ঐতিহাসিক এই জয় নিশ্চিত করেন। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, হ্যামিল্টন ৫২.১% ভোট পেয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট রজার মার্শাল পেয়েছেন ৪৪.৯% ভোট। ১৯৩২ সালের পর কানসাস থেকে এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটে পা রাখছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কানসাসে ডেমোক্র্যাটদের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পেছনে কাজ করেছে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা এবং ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের তীব্র অসন্তোষ। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকেরা জ্বালানি ও সারের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এর পাশাপাশি রক্ষণশীল রাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের গর্ভপাত অধিকার রক্ষা (Abortion Rights) এবং প্রজনন স্বাধীনতা রক্ষার প্রচারণা নারী ও তরুণ ভোটারদের ব্যাপকভাবে বুথমুখী করেছে। তা ছাড়া রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত সামান্য ঋণের দায়ে সাধারণ রোগীদের নামে মামলা করা ও তাদের গ্রেফতার করানোর একটি নেতিবাচক খবর নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়া তার পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছে।