ফ্লোরিডা : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ধারণ, বিতরণ এবং সংরক্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে রাইয়ান আবদুল বাতেন (৩২) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযুক্ত রাইয়ান বাতেন ফ্লোরিডার বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (University of South Florida – USF)-র ‘বেলিনি কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড কম্পিউটিং’ বিভাগের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক।
ফ্লোরিডার হিলসবোরো কাউন্টির পাবলিক বুকিং রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ট্যাম্পা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (TPD) রাইয়ান বাতেনকে গ্রেপ্তার করে। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখা (Film, Distribute, Or Possess Image Or Video Of Sexual Activity With An Animal) শিরোনামে একই ধরনের অপরাধের মোট ১৩টি সুনির্দিষ্ট কাউন্ট (অভিযোগ) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর রাইয়ান বাতেনকে ফ্লোরিডার স্থানীয় ফাল্কেনবার্গ রোড জেলে (Falkenberg Road Jail) পাঠানো হয়েছে। আদালতের প্রাথমিক নথিতে তাঁর বন্ড বা জামিনের অবস্থা ‘No Bond’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এর অর্থ হলো, পরবর্তী কোনো আইনি আদেশ বা শুনানির আগে তিনি জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন না এবং তাঁকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
রাইয়ান আবদুল বাতেনের এই গ্রেপ্তারের খবরটি একাডেমিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) থেকে ২০১৬ সালে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক (B.Sc.) সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার (University of Rochester) থেকে হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন বিষয়ে ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর (MS) এবং ২০২২ সালে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২৩ সালে তিনি সেরা পিএইচডি ডিসার্টেশনের জন্য সম্মানজনক ‘AAAC ওআই ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছিলেন এবং সম্প্রতি ইউএসএফ-এর একটি গবেষণাগারের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘটনাটি অত্যন্ত সাম্প্রতিক হওয়ায় ট্যাম্পা পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি কিংবা জব্দকৃত ডিজিটাল প্রমাণের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি। সাধারণত এই ধরনের গুরুতর ডিজিটাল ফরেনসিক মামলায় দীর্ঘ তদন্তের প্রয়োজন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বা গ্রেপ্তার হওয়াই অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। আদালতে শুনানির মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত রাইয়ান আবদুল বাতেন আইনত নির্দোষ হিসেবে গণ্য হবেন ।