মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের ঐতিহাসিক জয়, বললেন ‘হাবিবি’

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি — যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সকে পরাজিত করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে মিশিগানের সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে।

বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বিজয় ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে কটাক্ষ করেন এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারণার কয়েক মাস ধরে এই দুই রিপাবলিকান নেতা তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছিলেন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে এল-সায়েদ বলেন, জানুয়ারিতে সিনেটে তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে ভ্যান্সকেই শপথবাক্য পাঠ করানোর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘Delicious irony’ বা ‘চমৎকার পরিহাস’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, `জেডি, হাবিবি, এখানে একটি চমৎকার পরিহাস রয়েছে। কারণ, আগামী জানুয়ারিতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে তোমাকেই আমাকে শপথবাক্য পাঠ করাতে হবে।’

‘হাবিবি’ একটি আরবি স্নেহসূচক শব্দ, যার অর্থ প্রিয়জন বা প্রিয় বন্ধু। এরপর মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় ও ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদ বলেন, “Wolverines 1, Buckeyes 0।” মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া দলের নাম উলভারিনস এবং ভ্যান্সের সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় ওহাইও স্টেটের দলের নাম বাকআইস। এর মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বিজয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় দুটির ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও কৌতুকের ছলে তুলে ধরেন।

এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে এল-সায়েদ বলেন, `ডোনাল্ড, আমি জানি আমার নাম উচ্চারণ করতে তোমার সমস্যা হয়। তাই আগামী জানুয়ারিতে জেডি আমাকে শপথবাক্য পাঠ করানোর পর তুমি আমাকে শুধু সিনেটর বলে ডাকতে পারো।’

নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প বারবার এল-সায়েদের নাম উচ্চারণ নিয়ে উপহাস করেন এবং তাঁর মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ করেন। ভ্যান্সও তাঁকে ‘Very, very evil’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদি’ ও ‘কমিউনিস্ট’ বলে আখ্যায়িত করেন। রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছিল, যা এল-সায়েদ অস্বীকার করেছেন।

নির্বাচনের ঠিক আগের দিনও ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এল-সায়েদকে নিয়ে আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, এল-সায়েদ ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের ঘৃণা করেন। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, কোনো কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি ব্যক্তি যদি আবদুলকে ভোট দেন, তাহলে তিনি পাগল। এসব আক্রমণের পর নির্বাচনে জয়ী হয়ে এল-সায়েদের বক্তব্যকে তাঁর রাজনৈতিক বিজয়ের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়েইন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক আবদুল এল-সায়েদ অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তাঁর এই বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতে ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা।