আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে জাতিসংঘে উদ্বেগ, হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার নিন্দা

শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক — আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক ও কৌঁসুলিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি এবং চাপ প্রয়োগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। আদালতের স্বাধীনতা নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন আইসিসির প্রেসিডেন্ট বিচারক তোমোকো আকানে। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আদালতের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মধ্যেও আইসিসি তার বিচারিক দায়িত্ব স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আকানে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে কোভিড-১৯ মহামারির পর এই প্রথম তাঁকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সরাসরি উপস্থিত না হয়ে আগে থেকে ধারণ করা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দিতে হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আইসিসি প্রেসিডেন্ট বলেন, আদালতের বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, অভিযোগ গঠন, বিচার, আপিল এবং ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়ে চলছে। প্রতিবেদনের সময়কালে ২৩ হাজার ৫০০-এর বেশি ভুক্তভোগী আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে সাত হাজারের বেশি ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।

আকানে আরও জানান, বর্তমানে আদালতের ৩৪টি প্রকাশ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব পরোয়ানা বাস্তবায়নে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। রোম সংবিধির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আদালতে হস্তান্তরের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আইসিসির ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতের কার্যক্রম নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যও উঠে আসে। তবে আদালতের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়মুক্তি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান আকানে। তিনি বলেন, আইসিসি আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচারিক দায়িত্ব পালন করে যাবে। আদালতের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায় কী ভূমিকা রাখে, ইতিহাস তা মূল্যায়ন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করে। জাতীয় আদালত কোনো ক্ষেত্রে এসব অপরাধের বিচার করতে অনিচ্ছুক বা অক্ষম হলে আইসিসি তার এখতিয়ার অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে পারে।