শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি : যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে নির্বাচনী প্রচারের ব্যয় কমিয়েছে রিপাবলিকান-সমর্থিত সংগঠনগুলো। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করতে চাইছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে কাজ করা প্রধান সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (সুপার প্যাক) কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড চারটি নির্বাচনী এলাকায় বিজ্ঞাপন বাবদ নির্ধারিত ব্যয় বাতিল করেছে। একই সঙ্গে আরও ১৬টি আসনে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সুপার প্যাকও লাস ভেগাস এলাকার একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ব্যয় কমিয়েছে।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্তগুলোকে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্পদ আরও সম্ভাবনাময় আসনগুলোতে কেন্দ্রীভূত করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই এখন দলটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে প্রচার ব্যয়ের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত রিপাবলিকান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের শেষ কয়েক সপ্তাহে অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের অংশ হিসেবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আরও কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অর্থ সংগ্রহ ও বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্যোগ বাড়াচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। দলটির প্রতিনিধি পরিষদবিষয়ক নির্বাচনী কমিটি নতুন করে অর্থ সংগ্রহ করে প্রচার জোরদার করতে চাইছে। ডেমোক্র্যাটদের কৌশল হলো, রিপাবলিকানদের আরও বেশি আসন রক্ষায় অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করা। এতে তুলনামূলকভাবে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনগুলোতে রিপাবলিকানদের প্রচার-সম্পদে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদরা।
জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে রিপাবলিকান কৌশলবিদদের যুক্তি, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প যেসব এলাকায় বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন, সেসব আসনে অতিরিক্ত অর্থ ও প্রচারশক্তি ব্যয় করে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের সম্পদ ছড়িয়ে ফেলতে পারে। নির্বাচনের আগে প্রচারের অর্থ এক আসন থেকে অন্য আসনে সরিয়ে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিচিত কৌশল। জনমত জরিপ, তহবিল সংগ্রহ এবং প্রার্থীদের সম্ভাবনা সম্পর্কে মূল্যায়ন বদলালে রাজনৈতিক দল ও তাদের সমর্থক সংগঠনগুলোও ব্যয়ের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনে ভোট হবে। রিপাবলিকানরা বর্তমান নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইছে; অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন বাড়িয়ে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা। নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে তাঁর প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলবে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে এবং কেন্দ্রীয় বাজেট ও অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে আলোচনার ধরনও পাল্টে যেতে পারে।
ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তন থেকে বোঝা যাচ্ছে কোন আসনগুলোকে রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে করছে। তবে শুধু বিজ্ঞাপনের বাজেটের পরিবর্তন দিয়ে নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করা যায় না। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ও প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের জনসমর্থনই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।