যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের দলে রাজনৈতিক টানাপোড়েন

ওয়াশিংটন ডিসি : আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবিরে টানাপোড়েন বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারের ব্যয়, কৌশল নির্ধারণ এবং প্রার্থী বাছাই নিয়ে মতবিরোধের মধ্যে কংগ্রেসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে রিপাবলিকান পার্টি। শনিবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে দলের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ট্রাম্প তাঁর জ্যেষ্ঠ সহযোগী ও নির্বাচনী কৌশলবিদদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। প্রচারের অর্থ ব্যয়, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ট্রাম্প নিজে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী নন। তবে রিপাবলিকান ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে তিনি সমর্থকদের এমনভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন তিনিও ব্যালটে রয়েছেন। দলের পক্ষে সমর্থন জোরদার করতে তিনি নির্বাচনী প্রচারেও সক্রিয় রয়েছেন।

রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের একটি কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠন ম্যাগা ইনকরপোরেটেডের (MAGA Inc.) প্রধান জেমস ব্লেয়ার এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ট্রাম্প উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দলের নির্বাচনী কৌশল ও দুর্বল সম্ভাবনার জন্য কারা দায়ী, তা নিয়েও তাঁর রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সরকারি নথি অনুযায়ী, ম্যাগা ইনকরপোরেটেড প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী আসনগুলোতে রিপাবলিকানদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।

দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের নীতি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ঘিরেও অসন্তোষ দলের নির্বাচনী পরিবেশকে কঠিন করে তুলেছে। নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রার্থী বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগুলোতে ট্রাম্প নিজেও ভূমিকা রেখেছেন। এখন এসব উদ্যোগ নিয়ে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশের খবর দলের ভেতরে কৌশলগত মতপার্থক্যের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে জয় পেতে চায় ডেমোক্রেটিক পার্টি। অন্যদিকে, সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করছে রিপাবলিকানরা।

নির্বাচনের ফল এখনো অনিশ্চিত। তবে অর্থনৈতিক উদ্বেগ মোকাবিলা, নির্বাচনী কৌশল কার্যকর করা এবং দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা—শেষ পর্যায়ের প্রচারে রিপাবলিকান নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।