নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর হাতে তিন বাংলাদেশি আটক হওয়ার ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পরিচিত সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজক ইনামুল হক ইনাম। পরিচিতজনদের বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার ইনামুল হককে আটক করা হয়। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রায় ৪২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ইনামুল হক। দীর্ঘদিন নিউ ইয়র্কের জামাইকা এলাকায় বসবাস করেন তিনি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইনাম। বাংলাদেশ থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে তাঁর আমন্ত্রণে সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ ও কুমার বিশ্বজিৎ নিউ ইয়র্কে এসেছিলেন বলে পরিচিতজনেরা জানিয়েছেন।
কয়েক বছর আগে ইনাম ভার্জিনিয়ায় চলে যান। পরে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৪০০ মাইল দূরের বাফেলো শহরে বসবাস শুরু করেন। তাঁর পরিচিত কয়েকজনের দাবি, দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও প্রয়োজনীয় বৈধ অভিবাসন নথি সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাফেলোর আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে প্রায় এক সপ্তাহ আগে আটক করে আইস। বাবু নামে পরিচিত ওই ব্যক্তির ক্যানমোর অ্যাভিনিউয়ে একটি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে। তিনি ঢাকার মগবাজারের টিঅ্যান্ডটি কলোনির বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গেছে। আটকের পর এখনো তাঁকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে পরিচিতজনেরা জানিয়েছেন। তাঁর রেস্তোরাঁটিও বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে বাফেলো থেকে বাংলাদেশি নাগরিক জাকির হোসেনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁর গ্রিন কার্ড থাকলেও আটকের সময় সেটি সঙ্গে ছিল না বলে জানা গেছে। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরপর এসব আটকের ঘটনায় বাফেলোসহ ওয়েস্টার্ন নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের নথিপত্র ও আইনি অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ওয়েস্টার্ন নিউ ইয়র্কের সংবাদমাধ্যম বাফেলো টরন্টো পাবলিক মিডিয়া (বিটিপিএম) ও ডব্লিউএক্সএক্সআই নিউজের গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আপস্টেট নিউ ইয়র্কে আইসের হাতে আটক মানুষের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে যায়। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময় পর্যন্ত পুরো নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে আইসের হাতে আটক মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০-তে পৌঁছেছিল।
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আপস্টেট নিউ ইয়র্কে আটক ব্যক্তিদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজনের কোনো অপরাধমূলক অতীত ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ওই তথ্য ও বিশ্লেষণের নির্ভুলতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। আটক বাংলাদেশিদের বর্তমান আইনি অবস্থা এবং তাঁদের মুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।