যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি – যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের শাসন, নীতি ও কর্মকাণ্ডের ওপরও ভোটারদের মূল্যায়ন প্রতিফলিত হবে এ নির্বাচনে।

নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, স্থানীয় প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকান পার্টি। তবে দুই কক্ষেই তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসের অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসনের নিট লাভ প্রয়োজন। অন্যদিকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের চারটি আসনের নিট লাভ করতে হবে। তবে সিনেটে কোনো দল সমানসংখ্যক আসন পেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোট সিদ্ধান্ত নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম, অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন।

নির্বাচনের আগেই বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক আগাম ভোট দিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ইলেকশন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ।

এ নির্বাচনের ফলাফল আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্টের নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা সাধারণত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের মধ্যবর্তী সময়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পান।

আজকের নির্বাচনের ফলাফল শুধু কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যই নির্ধারণ করবে না, বরং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।