জেড-জির ‘রক নেশন’-এ ৩ বছরের ফুটবল বিস্ময় নেভাদা!

ফ্লোরিডা, ইউএসএ – আমেরিকার একটি স্থানীয় অনূর্ধ্ব-৪ ফুটবল লিগের মাঠ থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার রূপ নিল আন্তর্জাতিক রূপকথায়। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের অনায়াসে কাটিয়ে গোল করার ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই ৩ বছর বয়সী ফুটবল বিস্ময় নেভাদা পিয়েরে (Nevada Pierre) এবার বিশ্বখ্যাত র‍্যাপার জেড-জি (Jay-Z)-এর ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘রক নেশন স্পোর্টস’ (Roc Nation Sports)-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

খুদে এই ফুটবল প্রতিভাকে বিশ্বমঞ্চে আরও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতে রক নেশন স্পোর্টস ইতিমধ্যে তার জন্য স্পেনে একটি বিশেষ ডেভলপমেন্ট ট্যুরের পরিকল্পনা করেছে। সংস্থাটি অনলাইনে নেভাদাকে সরাসরি সমর্থন জানিয়ে লিখেছে, “এভাবেই এগিয়ে যাও এবং নিজের আলো ছড়িয়ে দাও।”

ফ্লোরিডার উইন্টার পার্কের ‘i9 স্পোর্টস’ ইয়ুথ লিগের একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। নেভাদার মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় ৩ বছরের শিশুটি বাকি বাচ্চাদের কাটিয়ে একের পর এক গোল করছে, আর তার পরের দৃশ্যেই মাঠে পুলিশ এসে হাজির হয়েছে। নেভাদার বাবা-মা অভিযোগ করেন, তাদের ছেলে সমবয়সীদের তুলনায় “অতিরিক্ত ভালো” খেলার কারণে অন্য বাচ্চাদের অভিভাবকরা অস্বস্তিতে পড়েন। ফলে লিগ কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে নেভাদাকে সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখে এবং পুলিশ ডাকে।

তবে লিগ কর্তৃপক্ষ এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, পুলিশ ডাকা হয়েছিল মূলত মাঠে উপস্থিত অভিভাবকদের বিশৃঙ্খলা ও ঝগড়া থামানোর জন্য। বিনোদনমূলক এই লিগে সব শিশুর জন্য সমান সময় খেলার নিয়ম রয়েছে। কোচ যখন নেভাদাকে তুলে অন্য শিশুকে মাঠে নামাতে যান, তখন তার বাবা-মা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং লিগ স্টাফদের ভিডিও করতে থাকেন। এছাড়া লিগ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, নেভাদা দক্ষ হলেও খেলার মাঠে অন্য শিশুদের প্রায়ই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছিল।

উইন্টার পার্ক পুলিশ বিভাগ এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেয়নি এবং লিগ কর্তৃপক্ষ ওই পরিবারকে তাদের রেজিস্ট্রেশন ফি সম্পূর্ণ ফেরত দিয়ে দেয়। লিগের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় নেভাদার অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি, বরং তার জন্য খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। আমেরিকার জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ফরোয়ার্ড এডি জনসন ঘোষণা করেছেন যে, তার ওরাল্যান্ডো-ভিত্তিক ‘EJE7 ফুটবল একাডেমি’ এখন থেকে নেভাদাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবে। এর ফলে নেভাদা এখন কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার পরিবেশ পেয়েছে।

ডিজিটাল দুনিয়াতেও নেভাদাকে নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। তার ভবিষ্যতের ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য অনলাইন ফান্ড রাইজিংয়ের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৩,০০০ ডলারেরও বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৩ লাখ টাকা) অর্থ সংগৃহীত হয়েছে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খুদে ফুটবলারের ফলোয়ার সংখ্যা রাতারাতি বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৯ লাখ পার হয়ে গেছে। ফ্লোরিডার মাঠের সেই ছোট্ট বিতর্কটিই শেষ পর্যন্ত খুদে ফুটবলার নেভাদা পিয়েরের জন্য ইউরোপীয় ফুটবলের এক অভাবনীয় দরজা খুলে দিল।