মুম্বাই: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফ্রিডম ২৫০ রিসেপশন শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও বক্তব্য দেন। তাঁদের বক্তব্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা গুরুত্ব পায়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। মুম্বাইয়ে মার্কিন কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি এবং ভারতীয় শেয়ারবাজারে মার্কিন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কো রুবিও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অগ্রগতিকে জনকল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এসব প্রযুক্তির সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌপথ কোনো একক দেশের আধিপত্য বা নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। রুবিও স্বীকার করেন, সব বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান এক হবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে দুই দেশের সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান ভবিষ্যৎ গঠনে যৌথ সুযোগ তৈরি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন। অবকাঠামো, শিক্ষা, কৃষি ও প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি কোয়াড, মিশন ৫০০, প্যাক্স সিলিকা এবং ফোর্জ ইনিশিয়েটিভের মতো উদ্যোগের কথাও বলেন। ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে বর্ণিত তাহাউর হুসেন রানাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান জয়শঙ্কর। তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি এবং আত্মরক্ষার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেন।
বক্তব্যের শেষাংশে জয়শঙ্কর বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিতে অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপন করা হচ্ছে।