শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক – যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস—DOJ)। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করেছে বিভাগটি। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিচার বিভাগ জানায়, মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং অন্য অঙ্গরাজ্যে প্রতারণামূলকভাবে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার ঘটনা।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর ভোট জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিচার বিভাগ ভোটসংক্রান্ত জালিয়াতির তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্যে ১৯৫ জন অ-নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধ ভোটদান ও ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভোটসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে মোট ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছে বিভাগটি।
মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মামলাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের নাম রয়েছে। বিচার বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন।
তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তির কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিচার বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জর্জিয়া, টেক্সাস, নর্থ ক্যারোলাইনা, টেনেসি, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, নেভাডা, পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল বিচারিক এলাকার মামলার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার নিবন্ধন, ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিতে ভুল তথ্য দেওয়া এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে আগের ভোটদান বা নিবন্ধনের তথ্য গোপন করার অভিযোগ। কয়েকটি মামলায় একাধিক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কিছু অভিযুক্ত বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা থাকলেই ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পাওয়া যায় না।
বিচার বিভাগ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করেছে, অভিযোগপত্র, ইন্ডাইটমেন্ট বা এ-সংক্রান্ত আইনি নথিতে উত্থাপিত অভিযোগ নিজে থেকেই অপরাধ প্রমাণ করে না। আদালতে যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সব অভিযুক্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।