শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) বিরোধপূর্ণ পশ্চিম সাহারা (Western Sahara) অঞ্চলে চলমান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (MINURSO)-এর মেয়াদ বৃদ্ধি ও এর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম কূটনৈতিক অচলাবস্থা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর, ২০২৬) নিরাপত্তা পরিষদে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার আনা দুটি ভিন্ন খসড়া প্রস্তাবই ভোটাভুটিতে বাতিল হয়ে গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রথম খসড়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এতে পশ্চিম সাহারায় মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছরের পুরনো শান্তিরক্ষা মিশনটি গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবটিতে শান্তিরক্ষা মিশন বন্ধ করে ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে একটি নতুন ‘রাজনৈতিক মিশন’ চালুর কথা বলা হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ১১টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও স্থায়ী সদস্য রাশিয়ার সরাসরি ভেটো (Veto) দেওয়ার কারণে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।
জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ রাশিয়ার এই ভেটোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, `রাশিয়া ঐতিহাসিক এক শান্তি প্রক্রিয়া ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছে’।
মার্কিন প্রস্তাবটি ভেটোতে নাকচ হওয়ার পর রাশিয়া একটি পাল্টা খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করে। রুশ প্রস্তাবে শান্তিরক্ষা মিশনটির মেয়াদ প্রথাগতভাবে আরও এক বছর (২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এই প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৯টি ‘হ্যাঁ’ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়। প্রস্তাবটির পক্ষে মাত্র ৩টি দেশ (রাশিয়া, চীন ও সোমালিয়া) ভোট দেয় এবং বাকি ১১টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। বিপরীতে স্থায়ী সদস্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর বিপক্ষে সরাসরি নেতিবাচক ভোট দেয়। প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় রাশিয়ার এই প্রস্তাবটিও ভেটো ছাড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে স্প্যানিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হওয়ার পর খনিজ সমৃদ্ধ পশ্চিম সাহারা অঞ্চলটি মরক্কো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর থেকে সেখানকার আদিবাসী সাহরাউই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী ‘পোলিসারিও ফ্রন্ট’ স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। ১৯৯১ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং একটি গণভোটের প্রস্তুতি তদারকির জন্য এই শান্তিরক্ষা মিশন (MINURSO) গঠিত হয়। দীর্ঘ তিন দশক ধরে সেই গণভোট আয়োজন সম্ভব হয়নি।
চলতি অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ (শনিবার) এই শান্তিরক্ষা মিশনের বর্তমান মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদে দুই পরাশক্তির এই দ্বিমুখী অনমনীয় অবস্থানের কারণে শেষ মুহূর্তে কোনো সমঝোতা না হলে দীর্ঘদিনের এই জাতিসংঘ মিশনটি এখন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।