শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক – বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন, শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা ও অবস্থানের সমালোচনা করেছেন মার্কিন বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই জাতিসংঘ নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ করেছে এবং এর ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি পক্ষপাতদুষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রুবিনের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। তাঁর নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা মূল্যায়নে যথেষ্ট সতর্কতা দেখায়নি।
রুবিনের নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের হিসাব এবং আওয়ামী লীগের উল্লেখ করা সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাঁর দাবি, জাতিসংঘ প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।
তিনি নিহত ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি প্রকাশ করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের তালিকা প্রকাশ করা হলে নিহতের সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
রুবিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ইরানের ১৯৭৯ সালের বিপ্লব এবং মিসরের ২০১৩ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে অবমূল্যায়ন করলে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক সহনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দলটির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক মহল শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতের শিকার হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রুবিন তাঁর নিবন্ধে ইউনূসের রাজনৈতিক অবস্থান এবং জাতিসংঘের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, জাতিসংঘের বক্তব্য ও নিহতের সংখ্যা নির্ধারণের পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।
রুবিন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, নিহতের সংখ্যা নির্ধারণের ভিত্তি, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা উচিত।
রুবিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সহনশীলতায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক শক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।