আইরিন রহমান, নিউইয়র্ক – মার্কিন কংগ্রেসে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া বাংলাদেশ ককাসকে পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান টম সোয়াজি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসকে সক্রিয় করার পাশাপাশি এর নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি। ২৬ অক্টোবর ফ্লাশিংয়ে হিন্দু টেম্পল সোসাইটির মিলনায়তনে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত দিওয়ালি উৎসবের এক অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপকালে সোয়াজি বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিউইয়র্কের তৃতীয় কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি সোয়াজি লং আইল্যান্ড ও কুইন্সের কিছু অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিন্স কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি করনীতি, বাণিজ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয়ে কাজ করেন। তিনি হাউস সিলেক্ট কমিটি অন চায়নার সঙ্গেও যুক্ত।
মধ্যপন্থী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত সোয়াজি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কট্টরপন্থার পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রতিনিধি পরিষদের প্রবলেম সলভার্স ককাসের ডেমোক্র্যাটিক কো-চেয়ার হিসেবেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ককাস পুনরায় সক্রিয় হলে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মার্কিন কংগ্রেসে তুলে ধরার সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশা করছেন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈম নিজাম, কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দীলিপ নাথ, নিউ আমেরিকান ভোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীপা নাথ, জেনোসাইড একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা ড. প্রদীপ কর, নিউইয়র্ক পুলিশের সঙ্গে যুক্ত শক্তিগুপ্ত, ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র চ্যাপ্টারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিদ্যুৎ সরকার এবং ইউনাইটেড হিন্দুজের নেতা শ্যামল চক্রবর্তী।
মার্কিন কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান বেঞ্জামিন গিলম্যান। তাঁর মৃত্যুর পর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি ককাসের নেতৃত্ব দেন। ক্রাউলি ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কের সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করেন। এ এলাকার মধ্যে জ্যাকসন হাইটস, উডসাইড, এলমহার্স্ট, অ্যাস্টোরিয়ার কিছু অংশসহ বাংলাদেশি-আমেরিকানদের বসবাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ককাসটির কার্যক্রমও ক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বলে কমিউনিটির অনেকে মনে করেন।
এমন পরিস্থিতিতে টম সোয়াজির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ককাস পুনর্গঠনের সম্ভাবনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে ককাসের নেতৃত্ব গ্রহণ ও পুনর্গঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।