উইন্টার পার্ক, ফ্লোরিডা: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মাত্র তিন বছর বয়সী এক শিশুর ফুটবল খেলা নিয়ে একটি যুব ক্রীড়া লিগের কর্মকর্তার সঙ্গে তার বাবা-মায়ের বিরোধের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একপর্যায়ে লিগের এক কর্মকর্তা পুলিশ ডাকেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ছিল দেওয়ানি বিরোধ; কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
শিশুটির নাম নেভাদা নেইমার পিয়েরে। গত ২৪ অক্টোবর অরল্যান্ডোর কাছে উইন্টার পার্কের মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র পার্কে i9 Sports-এর একটি যুব ফুটবল কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির ফুটবল খেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে কর্মকর্তাদের বডি-ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও এবং জরুরি নম্বর ৯১১-এ করা ফোনকলের অডিও প্রকাশ করে।
পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিও এবং এবিসি নিউজ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিগের অ্যাথলেটিক ডিরেক্টর পুলিশকে জানান, নেভাদা অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক দক্ষ এবং সে বেশ কয়েকটি গোল করেছিল। তবে তার অভিযোগ, খেলতে গিয়ে শিশুটি অন্য খেলোয়াড়দের ধাক্কা দিচ্ছিল।
কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য শিশুদেরও খেলার সুযোগ দিতে তিনি নেভাদাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর এক অভিভাবককে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে তিনি ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। কর্মকর্তা পুলিশকে জানান, তিনি পরিবারটিকে ওই কর্মসূচি থেকে চলে যেতে বলতে চান এবং তাদের নিবন্ধন ফি ফেরত দেওয়ার প্রস্তাবও দেন।
নেভাদার মা মার্তাসিয়া গ্রিফিন লিগ কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, ফুটবলে ছেলের দক্ষতা বেশি হওয়ায় তাকে বারবার খেলা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল। গ্রিফিন জানান, আগের ম্যাচগুলোতেও তার ছেলেকে একাধিকবার মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আবারও বদলি করার সিদ্ধান্তে তিনি আপত্তি জানান। তার বক্তব্য, ছেলেকে ফুটবল খেলানোর জন্যই লিগে নিবন্ধন করা হয়েছিল; কিন্তু তার পারফরম্যান্সই বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পরিবারের প্রকাশ করা ভিডিওতে নেভাদাকে বয়সে বড় শিশুদের পাশ কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যেতে এবং গোল করতে দেখা যায়। তার মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন বছর বয়সী নেভাদা প্রায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের সঙ্গে একই লিগে খেলছিল। তবে শিশুটির পরিবার ও লিগ কর্মকর্তার বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। পুলিশ ডাকার কারণ যে শিশুটির অসাধারণ ফুটবল দক্ষতা ছিল, তা প্রকাশিত তথ্য দিয়ে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
উইন্টার পার্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ২৪ অক্টোবর একটি যুব ক্রীড়া কর্মসূচির পরিচালক খেলোয়াড়ের বাবা-মায়ের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে সহায়তা চেয়ে ফোন করেন। পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, কর্মকর্তারা পৌঁছানোর সময় বাবা-মা নিজেরাই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ পরিবারটিকে সহযোগিতাপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করে এবং জানায়, ঘটনাটি ছিল লিগ ও অভিভাবকদের মধ্যকার দেওয়ানি বিরোধ, কোনো ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা নয়।
বিভাগটি আরও স্পষ্ট করে জানায়, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, পার্কে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি কিংবা কাউকে জোর করে পার্ক ছাড়তে বাধ্য করা হয়নি। নিবন্ধন ফি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ করতেও পুলিশ সহায়তা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির বিষয়ে পুলিশ জানায়, শিশুটির মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে পুলিশ ডাকা হয়েছিল—এমন কোনো ইঙ্গিত তাদের কাছে ছিল না।
ঘটনায় জড়িত i9 Sports কর্মসূচির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রতিটি শিশু ও পরিবারের প্রতি সম্মানজনক আচরণ এবং তাদের কল্যাণ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যালোচনা চলাকালে যাচাই না করা তথ্য নিয়ে অনুমানভিত্তিক মন্তব্যও করবে না তারা।
ঘটনাটি শিশুদের খেলাধুলায় ব্যক্তিগত দক্ষতা, সবার জন্য সমান খেলার সুযোগ, খেলোয়াড়সুলভ আচরণ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে ক্রীড়া সংগঠকদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, একটি যুব ফুটবল ম্যাচে লিগ কর্মকর্তা ও শিশুটির বাবা-মায়ের মধ্যে বিরোধের পর পুলিশ ডাকা হয়েছিল। পরিবারটি কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে দেওয়ানি বিরোধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে; কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।