নিউইয়র্কে ট্রাফিক পুলিশ ইউনিয়নের সভায় সংঘর্ষ, আটক নেতা সাময়িক বরখাস্ত

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টদের শ্রমিক সংগঠন CWA লোকাল ১১৮২-এর সাধারণ সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ সাঈদ ইসলামকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী নেতা খান শওকত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

২৫ অক্টোবর ম্যানহাটনের নরম্যান থমাস হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে ইউনিয়নের সাধারণ সভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর সাঈদ ইসলামকে ৩০ দিনের জন্য চাকরি ও ইউনিয়ন—উভয় ক্ষেত্র থেকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি নিউইয়র্ক পুলিশের ম্যানহাটনের ১৪তম প্রিসিঙ্কটের আওতায় এসেছে। প্রতিবেদনে একটি পুলিশি রিপোর্ট নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে: ২০২৬-০১৪-১৩৩১৬।

খান শওকতের অভিযোগ, সাধারণ সভায় ইউনিয়নের নেতৃত্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সদস্যদের জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা চলাকালে সাঈদ ইসলামের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। তিনি কথোপকথনের ভিডিও ধারণ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাঁর ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর খান শওকত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

CWA লোকাল ১১৮২-এর নেতৃত্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিয়ে ইউনিয়নের সদস্যদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষের কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। খান শওকত বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্ত, হিসাব প্রকাশ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে। আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে সেক্রেটারি-ট্রেজারার পদে তাঁর প্রার্থিতার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ইউনিয়নের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলারের হিসাব এবং নিরীক্ষা সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে আরেকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথি, নিরীক্ষার ফলাফল এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই ছাড়া অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক বিভাগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। তাঁদের কর্মক্ষেত্রের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিক ইউনিয়নের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়নের সাধারণ সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ এবং নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিরোধ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ বিরোধ ইউনিয়নের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা এখন দেখার বিষয়।