ইউক্রেনের ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের ঘোষণা মেলানিয়া ট্রাম্পের

নিউইয়র্ক: ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর ওলেশকিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ফার্স্ট লেডির দপ্তরের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকায় সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা হবে, যাতে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করা যায়।

মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ওলেশকির পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। শহরটি বর্তমানে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে অবস্থিত এবং বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে অবস্থানরত বাসিন্দাদের অধিকাংশই প্রবীণ, যাঁদের জরুরি চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন। তিনি জানান, শহরটির বাসিন্দারা সীমিত বিদ্যুৎ সুবিধা, মাইন পুঁতে রাখা সড়ক এবং নিয়মিত সামরিক হামলার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্যোগটি না নেওয়া হলে শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং প্রবীণ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মেলানিয়া ট্রাম্প ও তাঁর প্রতিনিধি রাশিয়া এবং ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে স্থানীয় যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণে কাজ করেছেন। বিশেষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি আলোচনার সূচনা করেন এবং চুক্তির লক্ষ্য, কারিগরি প্রস্তুতি, সময়সূচি ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, উভয় দেশের বেসামরিক প্রতিনিধিরা ওলেশকির বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের প্রয়োজন নির্ধারণ করবেন। যাঁরা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাঁদের জন্য সমন্বিত সহায়তা ও পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে। বাসিন্দারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী রাশিয়া অথবা ইউক্রেনে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করার জন্য একটি নিরপেক্ষ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার ও বাসিন্দার ইচ্ছাকে যথাযথভাবে সম্মান করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সহায়তা পাওয়া যাবে।

ফার্স্ট লেডির বিবৃতি অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানের এক ব্যক্তিগত আলোচনায় ওলেশকির সংকটের বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, এর আগে ৩৪ শিশুর পুনর্মিলনসংক্রান্ত ছয়টি উদ্যোগের মাধ্যমে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে যে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, নতুন এই উদ্যোগেও তা কাজে লাগানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পরবর্তী সময়ে দুই দেশই এই জটিল কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য নিজ নিজ দল নিয়োগ করে। এর মধ্যে সড়ক ও চলাচলের পথ থেকে মাইন অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি বিষয়ও রয়েছে। পরিকল্পিত যুদ্ধবিরতি ও মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি খেরসন শহরের বিপরীতে দিনিপ্রো নদীর অপর পারে অবস্থিত। যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ২৪ হাজার।

ফার্স্ট লেডির দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শহরটিতে আনুমানিক ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। তাঁদের অধিকাংশই প্রবীণ নাগরিক, যাঁরা শহর ছেড়ে যেতে পারেননি। এ ছাড়া সেখানে প্রায় ৫০টি শিশু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে শহরটিতে আনুষ্ঠানিক জনসংখ্যা জরিপ হয়নি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে শহরটির বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অথবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের পর ব্যাপক বন্যায় ওলেশকির আনুমানিক ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির মূল লক্ষ্য হলো সাময়িকভাবে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো, বাসিন্দাদের প্রয়োজন মূল্যায়ন করা এবং যাঁরা শহর ছাড়তে চান, তাঁদের সরিয়ে নেওয়া। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি এবং মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।