শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ লাইটনিং-টু যুদ্ধবিমান কর্মসূচি শক্তিশালী করতে ১০ বছর মেয়াদি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এই চুক্তির আওতায় কর্মসূচির উন্নয়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রক্ষণাবেক্ষণে অন্তত ৭ বিলিয়ন ডলার নিজস্ব অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লকহিড মার্টিন।
প্রতিরক্ষা বিভাগের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা। তবে চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি অব ওয়ার মাইকেল পি. ডাফি বলেন, “দ্রুতগতিতে এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন নিশ্চিত করতে আমরা যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে স্থিতিশীল করছি, তাতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছি।”
তিনি আরও বলেন, লকহিড মার্টিনের সঙ্গে এই চুক্তির মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনাকে প্রকৃত কর্মসম্পাদনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধ পরিচালনা ও বিজয় অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। চুক্তির আওতায় লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ কর্মসূচির সহায়তায় অন্তত ৭ বিলিয়ন ডলার নিজস্ব অর্থায়নে বিনিয়োগ করবে। এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি আগামী এক দশকে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়-প্রতিশ্রুতির সুবিধা পাবে।
প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের ‘অ্যাকুইজিশন ট্রান্সফরমেশন স্ট্র্যাটেজি’ বা ক্রয়ব্যবস্থা রূপান্তর কৌশল বাস্তবায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়পরিকল্পনার নিশ্চয়তা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা। ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা থাকলে উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং কারখানার অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্তত ৮৫০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। এ ছাড়া চুক্তিতে প্রাথমিক পর্যায়ের খুচরা যন্ত্রাংশ ও পরিবর্তনসংক্রান্ত কিট সংগ্রহ এবং বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে যন্ত্রাংশের চাহিদা সমন্বয় করার মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের আর্থিক সুবিধা কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা বিভাগ।
এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এফ-৩৫ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরবরাহকারী ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের বিষয়ে আরও নিশ্চিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এফ-৩৫ লাইটনিং-টু একটি পঞ্চম প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এতে রয়েছে স্টেলথ প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের সক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশযুদ্ধ সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই যুদ্ধবিমান। দেশটির সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদাররাও এটি ব্যবহার করে।
নতুন চুক্তির মাধ্যমে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক চাহিদা পূরণে প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ওপর চুক্তির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে। ফলে এই কাঠামোগত চুক্তি চূড়ান্ত হলেও এর আওতায় পরিকল্পিত সব ক্রয় ও অর্থায়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না।