মুম্বাই: ইউক্রেনে ব্যবহৃত স্টারলিংক সেবা সীমিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দেশ দেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাটি নিয়ে ওয়াশিংটনের নির্দেশনার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেছেন, স্টারলিংকের ব্যবহার ও পরিচালনার শর্ত একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় নির্ধারিত হয়। বুধবার ভারতের মুম্বাইয়ে তাজমহল প্যালেস হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্টারলিংক একটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। অন্যদিকে, স্টারশিল্ড একটি পৃথক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যা মার্কিন যুদ্ধ দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
স্টারলিংক সেবা সীমিত করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে অবগত ছিল কি না, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন কোনো পূর্বজ্ঞান তাঁর ছিল না। তাঁর ভাষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা সরকারের কেউই ওই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার অনুরোধ করেননি। রুবিও ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ বা ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন থেকে শুরু করে ট্রাম্পের প্রশাসন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে।
ইউক্রেনীয় সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, দনবাস অঞ্চলের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান বাধা। রুবিও জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে সেন্ট পিটার্সবার্গে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, সংঘাতের সমাধান কঠিন এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষকেই কিছু বিষয়ে সমঝোতা করতে হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কাতার ও পাকিস্তানের উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রুবিও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তবে তিনি বলেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ না পায়, যেকোনো চুক্তিতে তা নিশ্চিত করতে হবে। জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়ার অংশগ্রহণের বিষয়েও কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাশিয়াকে জি-২০-এর বৈঠকগুলোতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে আটলান্টায় অনুষ্ঠেয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ নিজে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
ভারতে বিরোধী দল ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রুবিও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও বিক্ষোভ রাজনৈতিক আলোচনার অংশ। তবে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পার্থক্য রয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়গুলো দেশটির জনগণেরই নির্ধারণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক নিয়েও কথা বলেন রুবিও। তিনি বলেন, বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কার্যক্রম, জ্বালানি খাত এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রুবিও উল্লেখ করেন, রিলায়েন্সের উল্লেখযোগ্য তেল পরিশোধন সক্ষমতা রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ভেনেজুয়েলাসহ পশ্চিম গোলার্ধের বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপাদিত ভারী অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে।
এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মীদের নৈতিকতা, উপহার গ্রহণ এবং পেশাগত আচরণসংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে ঘিরে প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন নির্দেশনাটি পাঠানো হলেও রুবিও বলেন, বার্তাটি কয়েক সপ্তাহ আগেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়নি।
রুবিও বলেন, মার্কিন কূটনীতিকদের আইন মেনে চলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নৈতিক মান বজায় রাখতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করার ধারণা তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।রাশিয়ায় আটক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাবার্ডকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে অনুরোধ জানিয়ে আসছে।