আইরিন রহমান, নিউ ইয়র্ক — বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মিথ্যা মামলা, নিপীড়ন ও সামাজিক হেনস্থার প্রতিবাদে এবং পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফন নিয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দায় সোচ্চার হয়ে উঠেছে প্রবাসীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে অবস্থিত নবান্ন রেস্তোরায় জেনোসাইড ‘৭১ ফাউন্ডেশন ইউএসএ-এর উদ্যোগে এক জনাকীর্ণ প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সংগঠক ড. প্রদীপ রঞ্জন কর এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: মনজুর চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনায় প্রবাসে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানান। বক্তারা অত্যন্ত গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির স্মারক ঢাকা সেনানিবাসের ঐতিহাসিক ‘শিখা অনির্বাণ’ নিভিয়ে বা অবজ্ঞা করে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই গৌরবোজ্জ্বল শিখা পুনরায় প্রজ্জ্বলন করার জন্য তারা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
একই সাথে পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির মৃত্যুর পর তাঁর দাফন এবং গার্ড অব অনার নিয়ে যে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন যে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের প্রতি এমন অসম্মান ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বাঙালির জাতীয় ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর চলমান পরিকল্পিত নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সংহতি জানিয়ে প্রবাসের বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সম্মুখসমরের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্মানিত উপদেষ্টা মণ্ডলী, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ পূর্বাঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক।
সম্মুখসমরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশীদ আনোয়ার বাবলু। সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদ, সহসভাপতি জনাব টি. মোল্লা এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান সরদার।
এছাড়াও নতুন প্রজন্মের তরুণ ও ছাত্রনেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রজন্ম’৭১ ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা শিবলী সাদিক, কাজল মাহমুদ, কৃষিবিদ মিজানুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন জয় (জেড. এ. জয়), সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর এইচ. মিয়া এবং সাবেক ছাত্রনেতা শহিদুল ইসলাম।
নাগরিক সমাজ ও নারীদের পক্ষে সংহতি জানান রীনা আবেদীন এবং বিশিষ্ট কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শক্তি দাসগুপ্ত। সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে বীর মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকলেও বাংলাদেশের মাটিকে স্বাধীন করতে রক্ত দেওয়া সন্তানরা প্রবাসে বসে কোনো অন্যায্য ও মুক্তিযোদ্ধা-বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড মুখ বুজে সহ্য করবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় সম্মান রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক মহলে লবিং ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংবাদ সম্মেলন সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।