শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে আশাবাদী ডেমোক্র্যাটরা। দলটির নেতা হাকিম জেফ্রিসের মতে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনের ফলাফল কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জেফ্রিস ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের কাছাকাছি রয়েছে দলটি। নির্বাচনে জয় পেতে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে প্রচার জোরদার করছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া কিছু এলাকায় জয় ছিনিয়ে নেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে দলটি।
ডেমোক্র্যাট নেতা জেফ্রিস দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে ভোটারদের দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। দলটির নেতারা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে জয় নিশ্চিত করতে পারলে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এবারের নির্বাচনেও একই ধরনের ফলাফলের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী দলটির নেতারা। তবে নির্বাচনের ফলাফল এখনো নিশ্চিত নয়। রিপাবলিকানরাও তাদের ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলো ধরে রাখতে প্রচার চালাচ্ছে। দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় অর্থ ও সাংগঠনিক শক্তি ব্যয় করছে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব। দলটির সম্ভাব্য অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়ানো। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে হাকিম জেফ্রিস প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে আইন প্রণয়ন, সরকারি নীতির ওপর নজরদারি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দলটি বাড়তি ক্ষমতা পাবে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে চায়। নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে অল্প ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে—এমন আসনগুলোই শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।