শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে দুই দলের প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নামছেন তাঁরা। নির্বাচনের ফলাফল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফলাফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে। ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, ওবামা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার ও তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
রিপাবলিকানদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রচার জোরদার করেছেন ট্রাম্প। তিনি দলীয় সমর্থকদের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং তাঁর প্রশাসনের নীতির পক্ষে জনসমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নাম এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যালটে না থাকলেও নির্বাচনকে তাঁর প্রশাসনের কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থনের পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্য এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। নির্বাচনী প্রচারে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন বাড়াতে প্রচারে আরও সক্রিয় হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশ, প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা এবং তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে দলটির নির্বাচনী অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন তিনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওহাইও ও মিশিগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে ওবামার। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী জন অসফ এবং গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমসের সমর্থনেও সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, ওবামার জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দলীয় সমর্থকদের উজ্জীবিত করবে এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে সহায়তা করবে।
আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চায় রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা প্রয়োজনীয় আসন অর্জন করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে। নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন কার্যক্রম, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্যনীতি এবং প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও অভিবাসননীতি নির্বাচনী বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা অর্থনৈতিক চাপ ও প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করছে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা তাদের গৃহীত কর্মসূচির পক্ষে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই দলের প্রচার ততই জোরালো হচ্ছে। ট্রাম্প ও ওবামার সরাসরি নির্বাচনী সম্পৃক্ততা এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি সম্পর্কে ভোটারদের মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেবে। একই সঙ্গে কংগ্রেসে কোন দল কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের মার্কিন রাজনীতির গতিপথ।