হাসিনাসহ ১৮৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করলেন বাদী

চট্টগ্রাম: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ১৮৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেছেন চট্টগ্রামের আদালত। বাদী কফিল উদ্দিন বিরোধটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে আদালতকে জানানোর পর এ আদেশ দেওয়া হয়। গত ৮ অক্টোবর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করে আদেশ দেন। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

এর আগে, ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে দেওয়া বক্তব্যে কফিল উদ্দিন আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান।

আনোয়ারার প্রয়াত জেবোল হোসেনের ছেলে কফিল উদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি আহত হন।

আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) মেট্রো ইন্সপেক্টর সৈয়দ মোহাম্মদ আহসানুল ইসলাম চলতি বছরের মার্চে চট্টগ্রামের আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ৬৬ জন নেতা ও কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়।

তবে সাবেক পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার সাইফুল ইসলামসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত সংস্থা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র আন্দোলন দমনে উসকানি ও নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা কফিল উদ্দিনকে একজন দিনমজুর হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি কোতোয়ালি এলাকায় কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কফিল উদ্দিন বলেন, তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় মামলাটি করেছিলেন। তবে অভ্যুত্থানের পরবর্তী মাসগুলোতে নিজেই অন্যায় ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

কফিল উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের কয়েকজন তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করেন। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাঁকে মারধর করা হয় এবং কারাগারেও পাঠানো হয়। তিনি দাবি করেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও যোগাযোগ থাকলেও আওয়ামী লীগের এই দুই সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে তিনি কখনো ছিলেন না।