কানসাস সিটি – ন্যাশনাল উইমেনস সকার লিগের (এনডব্লিউএসএল) নিয়মিত মৌসুমের শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কানসাস সিটি কারেন্টের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ওয়াশিংটন স্পিরিট। রোববার কানসাস সিটির সিপিকেসি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নিয়ে প্লে-অফের আগে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে কানসাস সিটি কারেন্ট।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিনটি গোল হয়। শুরুতে ওয়াশিংটন স্পিরিট এগিয়ে গেলেও মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিক দল। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য একাধিক আক্রমণ চালায় স্পিরিট। কিন্তু কানসাস সিটির রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক লোরেনার দৃঢ়তায় আর গোলের দেখা পায়নি তারা।
ম্যাচের ১২ মিনিটে গোল করে ওয়াশিংটন স্পিরিটকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড ক্লারা লুভাঙ্গা। কানসাস সিটির গোলরক্ষক লোরেনার একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এতে সফরকারী দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তবে স্পিরিটের এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র ৭৯ সেকেন্ড পর, ১৪ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন কানসাস সিটির মিডফিল্ডার লো’উয়া লাবন্তা। আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মিশেল কুপারের তৈরি করা সুযোগ থেকে বল পেয়ে গোল করেন তিনি। ফলে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে স্বাগতিক দল।
এর তিন মিনিট পর, ১৭ মিনিটে আবারও গোল করে এগিয়ে যায় কানসাস সিটি কারেন্ট। ওয়াশিংটনের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ক্রোয়া বেথুনের সহায়তায় গোল করেন ভ্যানেসা ডিবার্নার্ডো। তাঁর নিখুঁত শটে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১। প্রথমার্ধে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে হওয়া এই তিন গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
বিরতির পর সমতা ফেরাতে আক্রমণের গতি বাড়ায় ওয়াশিংটন স্পিরিট। বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কানসাস সিটির রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তারা। তবে স্বাগতিকদের সংগঠিত রক্ষণ ও গোলরক্ষক লোরেনার দৃঢ় পারফরম্যান্সে স্পিরিটের আক্রমণগুলো সফল হয়নি। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে ওয়াশিংটনের একটি বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ডাবল সেভ করেন লোরেনা।
শেষ দিকে স্পিরিটের চাপ আরও বাড়লেও কানসাস সিটির খেলোয়াড়েরা ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হন। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কানসাস সিটি কারেন্ট। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি টানা চার ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রাখে। ম্যাচে গোলের পেছনে সহায়তা করে ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছেন কানসাস সিটির মিডফিল্ডার ক্রোয়া বেথুন। ডিবার্নার্ডোর গোলটিতে সহায়তার মাধ্যমে চলতি মৌসুমে তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১-তে। এর মধ্য দিয়ে এনডব্লিউএসএলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি।

এ ছাড়া এটি ছিল ডিবার্নার্ডোর এনডব্লিউএসএল নিয়মিত মৌসুমে ২০০তম উপস্থিতি। লিগের ইতিহাসে এই মাইলফলকে পৌঁছানো পঞ্চম খেলোয়াড় তিনি। ম্যাচটিতে ১৮ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। কানসাস সিটি কারেন্টের ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার ধারাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ ম্যাচে। দলটি নিজেদের মাঠে টানা তৃতীয় মৌসুমে নিয়মিত লিগের সব ম্যাচের টিকিট বিক্রি শেষ করার নজিরও গড়েছে। এই জয়ের পর কানসাস সিটি কারেন্ট ৫০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে আসে। অন্যদিকে, ৫২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন স্পিরিট। দুই দলই ইতিমধ্যে প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট তালিকার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, লিগের শীর্ষ চার দল কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের মাঠে খেলার সুযোগ পাবে। ফলে শেষ ম্যাচে জয় পেলে ওয়াশিংটন স্পিরিটের জন্যও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা বা আরও উন্নত করার সুযোগ থাকবে। কানসাস সিটি কারেন্টের বিপক্ষে পরাজয়ের পর ওয়াশিংটন স্পিরিটের পরবর্তী ম্যাচ রোববার, ১ নভেম্বর ২০২৬। ওয়াশিংটন ডিসির অডি ফিল্ডে নিজেদের মাঠে শিকাগো স্টার্স এফসির মুখোমুখি হবে দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৫টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচ হওয়ায় সমর্থকদের সামনে জয় দিয়ে পর্বটি শেষ করার পাশাপাশি প্লে-অফের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, কানসাস সিটি কারেন্ট একই দিনে লুইসভিলে রেসিং লুইসভিল এফসির মাঠে খেলবে। এরপর দুই দলেরই মনোযোগ থাকবে এনডব্লিউএসএলের প্লে-অফে।