রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু, ব্যবহৃত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কাজে

মুজিবুর রহমান, ঢাকা – দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ আপাতত কেন্দ্রের নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়ার পর শুক্রবার সকালে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিএইআরএ স্টার্ট-আপ কার্যক্রমের অনুমতি দেয়। এরপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রটিতে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর জন্য আমরা সবার দোয়া কামনা করছি।’ বর্তমানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এখন টারবাইন পরীক্ষা চলছে, যা আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। সবকিছু সন্তোষজনক পাওয়া গেলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হবে।’

রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে প্রথম ইউনিটকে আরও একটি সনদ বা সার্টিফিকেশন—‘ডি’—অর্জন করতে হবে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছাতে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের VVER-1200 রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে।

রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে দ্বিতীয় ইউনিটেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে রাশিয়ার নকশায় তৈরি জেনারেশন থ্রি প্লাস (Generation III+) প্রযুক্তির দুটি VVER-1200 রিঅ্যাক্টর রয়েছে। দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটির সাধারণ নকশাকারী ও ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।