জলবায়ু অভিযোজন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-ব্রিটেন আলোচনা

লন্ডন – জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার লন্ডনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি র‍্যাচেল কাইটের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে কার্বন বাজার, গ্রিন ও ব্লু ইকোনমিতে বিনিয়োগ, জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের গতি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। শামা ওবায়েদ ইসলাম জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের চলমান উদ্যোগ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জলবায়ু কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারী ও শিশুদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব পড়ার বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। পাশাপাশি জলবায়ুসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু মোকাবিলায় নেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।

এ ছাড়া আসন্ন কপ-৩১ (COP31) জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন কার্যক্রম এবং অভিন্ন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়। বৈঠকে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত উপস্থিত ছিলেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় অর্থায়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে এ আলোচনায়।