আইরিন রহমান, নিউইয়র্ক – বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। আগামী ৫ নভেম্বরের নির্ধারিত শুনানি হচ্ছে না। পরিবর্তে আগামী ১৭ ডিসেম্বর মামলার উভয় পক্ষকে নিজ নিজ বক্তব্য ও তথ্য-উপাত্ত আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নথি পর্যালোচনা করে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন। ফলে চলতি বছরের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী তামারা হ্যারিসের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান ওসমান চৌধুরী।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সদস্যপদ বাতিলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। ফলে পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও ভোটগ্রহণ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি ভোটারকে ঘিরে আয়োজিত এই নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে সময় ও অর্থ ব্যয় হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
ওসমান চৌধুরীর অভিযোগ, তাঁকে সদস্যপদ দেওয়ার পর তা বাতিল করার যৌক্তিক কারণ ছিল না। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাঁকে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মামলার ব্যয়ভার বাংলাদেশ সোসাইটিকে বহন করতে হবে—এমন নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বলেন, সোসাইটির আইনজীবী মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন। তাঁর দাবি, ওসমান চৌধুরী সোসাইটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং এ কারণেই তাঁকে সদস্যপদ না দেওয়ার বিষয়ে আদালতের নির্দেশ রয়েছে। সদস্যপদ বাতিল, নির্বাচনে প্রার্থিতা এবং আদালতের নির্দেশনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয়ে আদালতে জমা দেওয়া নথি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তই বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সোসাইটির গঠনতন্ত্রে কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করার বিধান রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের বিধানের বৈধতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের তথ্য-উপাত্ত জমা দেওয়ার পর আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপরই বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে। ততদিন নির্বাচন স্থগিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।