নিউইয়র্কের ১৭তম আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, মুখোমুখি ললার-কনলি

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক – যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউইয়র্কের ১৭তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। এই আসনে রিপাবলিকান দলের বর্তমান কংগ্রেস সদস্য মাইক ললার এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইট কনলির মধ্যে লড়াইয়ের ফল প্রতিনিধি পরিষদে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে এ আসনের ভোটাররা তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। নিউইয়র্কের শহরতলির গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম, অভিবাসন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতি নির্বাচনী আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক ললার। তিনি কংগ্রেসে নিজের কাজ, দ্বিদলীয় সহযোগিতা এবং জ্বালানি উৎপাদন ও সামাজিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও নির্বাচনী প্রচারে আলোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইট কনলি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও ওয়েস্ট পয়েন্টের স্নাতক। তাঁর প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। ললারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে কনলি বলছেন, অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ভোটারদের আরও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। দুই প্রার্থীর প্রচারে জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, অভিবাসন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং ওয়াশিংটনে ফেডারেল সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমারসন কলেজ পোলিং ও PIX11-এর একটি জরিপে কেইট কনলি ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মাইক ললার ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জরিপটি ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৪০০ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর পরিচালিত হয়। এতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার তখনো সিদ্ধান্ত নেননি। জরিপটির উল্লেখিত ত্রুটিসীমা ছিল প্লাস-মাইনাস ৪ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট।

অন্যদিকে, ম্যাকলাফলিন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের জরিপে ললার ৫০ শতাংশ এবং কনলি ৪৭ শতাংশ সমর্থন পান। জরিপ দুটির ফলাফলে পার্থক্য থাকায় আসনটির প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা ঘনিষ্ঠ, তা স্পষ্ট হয়েছে। তবে এসব জরিপ সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পরিচালিত হয়েছিল; এগুলোকে বর্তমান মুহূর্তের জনমতের চূড়ান্ত প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর ২৩ অক্টোবর হালনাগাদ করা একটি পূর্বাভাসে কনলির জয়ের সম্ভাবনা ৫৯ শতাংশ এবং ললারের ৪১ শতাংশ দেখানো হয়েছিল। এটি একটি মডেলভিত্তিক পূর্বাভাস, নির্বাচনের ফল নয়।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই ৩ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামী দুই বছরে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ কোন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ওপর কংগ্রেসের নজরদারি, সরকারি ব্যয় এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে তাঁদের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

নিউইয়র্কের ১৭তম আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাই শুধু স্থানীয় রাজনৈতিক লড়াই নয়; এটি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের বৃহত্তর প্রতিযোগিতারও অংশ। আগামী ৩ নভেম্বর ভোটারদের রায়ে নির্ধারিত হবে, আসনটি রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা তা নিজেদের দখলে নিতে পারবেন।