পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না: ইরান

তেহরান: কোনো পরিস্থিতিতেই মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলার আশঙ্কার মধ্যে শনিবার, ২৪ অক্টোবর, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি এ ঘোষণা দেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আবদুল্লাহি বলেছেন, “কোনো পরিস্থিতিতেই এবং কোনো সময়েই আমরা মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেব না।”

তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রবেশের স্বপ্ন নিয়েই কবরে যেতে হবে। এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সতর্ক করে বলেছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে—এ সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্য এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল সীমিত করে রেখেছে। প্রণালিটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।

এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরান প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে অনুমতি নিতে বাধ্য করছে। এ ছাড়া ওমানের উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তেহরানের বিবেচনায় অননুমোদিত পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা কয়েকটি ট্যাংকার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার গার্ডস জানায়, কৌশলগত জলপথটিতে মাইনের আঘাতে ৪৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি সুপারট্যাংকার সাগরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

গার্ডসের সেপাহ নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাহাজ দুটির ইঞ্জিনকক্ষ অচল হয়ে পড়ে। তবে ট্যাংকার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এবং এর কারণ সম্পর্কে এসব তথ্য ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান বিরোধের মধ্যে তেহরানের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।