নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৩৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাসীন ফেরদৌস (Taseen Ferdous)। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের (বিপা) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শৈল্পিক পরিচালক অ্যানি ফেরদৌস এবং প্রকৌশলী জাফর আহমেদের একমাত্র কন্যা।
পারিবারিক ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ তীব্র ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর শনিবার তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, শিশুপুত্র লুকাস, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তাসীন ফেরদৌস নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নৃত্যচর্চা এবং বাংলা সংস্কৃতি প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শাস্ত্রীয় ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্যে তাঁর দক্ষতা প্রবাসী বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাঁকে পরিচিত করে তোলে। শৈশবেই মায়ের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের (বিপা) মাধ্যমে তাঁর নৃত্যশিক্ষার সূচনা হয়। পরে তিনি লোকনৃত্য ও সমসাময়িক নৃত্যে দক্ষতা অর্জন করেন।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিউইয়র্কের শিব জ্যোতি ড্যান্স একাডেমিতে প্রখ্যাত নৃত্যগুরু তেজস্বিনী রাজের অধীনে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ভরতনাট্যম শেখা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ আট বছর অনুশীলনের পর ২০১৩ সালে ভরতনাট্যমের আনুষ্ঠানিক একক পরিবেশনা ‘আরাঙ্গেত্রাম’ সম্পন্ন করেন।
বিপা ও শিব জ্যোতি ড্যান্স একাডেমির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন বহুসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির আয়োজনে নিয়মিত নৃত্য পরিবেশন করতেন তাসীন। তাঁর পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বাইরেও তাসীন ফেরদৌস বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ব্রুকলিনের কেনসিংটনসহ স্থানীয় এলাকায় অভিবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
সহকর্মী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিতজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে তাঁর মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অল্প বয়সে তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়া পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে।
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত মা অ্যানি ফেরদৌস, বাবা জাফর আহমেদ, স্বামী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।