দিল্লি সফরের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার ভারতের: ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার আবারো ঘোষণা শেখ হাসিনার

বিশেষ প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (FCC)-এর আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং দেশে ফেরার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে, তার ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পূর্তির দিনে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল সমাবেশে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে ফিরে জনগণের মুখোমুখি হবেন।

উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, ভয় বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার উদ্বেগ তাকে দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। তিনি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর চলমান নির্যাতন ও দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের তীব্র সমালোচনা করেন এবং অবিলম্বে এই রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ভারতকে পাশে পাওয়ায় তিনি দেশটিকে একটি ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ১৯৭১ ও ১৯৭৫ সালের সংকটময় মুহূর্তে ভারতের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। এই পুরো অনুষ্ঠানটিতে তিনি কোনো সরাসরি ভিডিও সংযোগের পরিবর্তে কেবল ভার্চুয়াল অডিও মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।

এদিকে শেখ হাসিনার এই রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী ও রাজনৈতিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের মাটিতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছিল। ঢাকা স্পষ্ট করে বলেছিল যে, একজন ফেরারি আসামিকে ভারতের মাটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার এই ভাষণ বা বার্তা প্রচারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই পুরো অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি মিডিয়া সংগঠন বা ক্লাবের নিজস্ব উদ্যোগ। এর সাথে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এই ফোরামে প্রকাশিত কোনো মতামতের দায়ভার বা সমর্থনও ভারত সরকার বহন করে না। মূলত, গত বছর বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর থেকেই ঢাকা তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ককে এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।