ফ্লোরিডা: যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট মায়ার্স শহরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি নারী ইয়াসমিন। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো এই নারী কর্মস্থলেই নির্মম সহিংসতার শিকার হয়ে জীবন হারান।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ড-এর একটি গ্যাস স্টেশন ও কনভেনিয়েন্ট স্টোরে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও গুরুতর আহত ইয়াসমিনকে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়। মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে নিভে যায় একটি প্রাণ, ভেঙে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আগের রাতে। এক হাইতির অভিবাসী ওই স্টোরের এটিএম মেশিন থেকে অর্থ উত্তোলনে ব্যর্থ হয়ে ইয়াসমিনের কাছে টাকা দাবি করেন। ইয়াসমিন শান্তভাবে জানান, এটিএমটি ভেন্ডরের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং ভুল পিনের কারণে সমস্যা হতে পারে। তিনি কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে ওই ব্যক্তি বারবার অর্থ দাবি করতে থাকেন। সেদিনের উত্তেজনা সেখানেই থেমে গেলেও, ইয়াসমিন বুঝতে পারেননি—এই ক্ষোভই পরদিন ভয়াবহ রূপ নেবে।
পরদিন সকালে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে ইয়াসমিনের গাড়ি ভাঙচুর করে। এরপর ইয়াসমিন বাইরে বের হলে কোনো কথা না বলে সরাসরি তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। ধারাবাহিক আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হলুদ টি-শার্ট, কালো শর্টস ও একটি ব্যাকপ্যাক পরা সেই ব্যক্তি অল্প সময়েই কেড়ে নেয় একটি মূল্যবান জীবন।
নিহত ইয়াসমিনের বাড়ি বাংলাদেশের চন্দ্রগঞ্জ এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি দুই কিশোরী কন্যাকে নিয়ে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাদের ভবিষ্যৎ গড়তেই প্রতিদিন সংগ্রাম করছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ শোকের ভারে নত হয়ে গেছে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও আশপাশের এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক।
হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পুলিশ তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক ঘোষণা করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করে দেয়—তার কাছাকাছি না যেতে এবং দরজা না খুলতে অনুরোধ জানানো হয়। পরিস্থিতির কারণে আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে লকডাউন করা হয়।
দীর্ঘ তল্লাশির পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক মাইল দূরে ডানবার পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতের নাম রলবার্ট জোয়াকিন (৪০)। তাকে লি কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রেও হঠাৎ সহিংসতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে। অনেক সময় পূর্বাভাস ছাড়াই সাধারণ মানুষ এ ধরনের আক্রমণের শিকার হন। তাই প্রবাসে বসবাসরত সকলের জন্য সতর্ক থাকা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।