যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনা!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার টিম গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য “বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন,” এবং এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে, মঙ্গলবার সিএনবিসিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট জানিয়েছেন। এই মন্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রাসী রণনীতি আরও তীব্র করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প এই আর্কটিক দ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আর্কটিক দ্বীপ প্রয়োজন, এবং তিনি রাশিয়া ও চীনের কর্মকাণ্ডকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অন্তর্গত, যা যুক্তরাষ্ট্রের মতো ন্যাটো সদস্য দেশ। মঙ্গলবার সকালে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ন্যাটো নেতারা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রাসী মন্তব্যের বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য ছিল, “গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বিষয়গুলো কেবল তাদের সিদ্ধান্তের মধ্যে থাকবে।”

এই যৌথ বিবৃতির পর লিভিট গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি আর্কটিক অঞ্চলে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিরোধ করতে অপরিহার্য। প্রেসিডেন্ট এবং তার টিম এই গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতি লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিকল্প আলোচনা করছেন, এবং অবশ্যই, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহার সবসময় একটি বিকল্প।”

তবে, স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও সোমবার আইনপ্রণেতাদেরকে জানিয়েছেন, প্রশাসনের লক্ষ্য ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী। ট্রাম্প আগে ঘন ঘন গ্রিনল্যান্ড, কানাডা এবং পানামা খালকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার কথা উল্লেখ করেছেন। এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার মুখোমুখি হয়েছে, যদিও কিছু বিশ্লেষক এটিকে গুরুত্বহীন ও বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে দেখেছেন।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই নতুন আলোচনা ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পর আরও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেখানে নিকোলাস মাদুরা এবং ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস সফলভাবে আটক হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা দেশটি চলাবো যতক্ষণ না নিরাপদ, সঠিক ও সুবিবেচনাপূর্ণ হস্তান্তর সম্ভব হয়।”
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করবে এবং দেশটির শক্তি অবকাঠামো ‘মেরামত’ করবে, এবং এই কোম্পানিগুলো তাদের খরচ ফেরত পাবেন।

সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান প্রতিনিধি জিম ম্যাকগভার্ন বলেন, “তিনি সত্যিই তার মন হারিয়েছেন। তবে তাকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত, কারণ তিনি চরম পদক্ষেপও নিতে পারেন।”

হোয়াইট হাউসের সিনিয়র উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে নিজের অংশ হিসেবে দেখতে চায়, এবং প্রয়োজনে দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নেওয়ার কথাও খারিজ করেননি। তবে তিনি দাবি করেছেন, “কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিকভাবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে লড়াই করবে না।”

অন্যদিকে, সেনেটর ক্রিস মারফি (ডি-কনেকটিকাট) বলেছেন, ন্যাটো দেশগুলো অবশ্যই প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ডের রক্ষা করবে। তিনি বলেন, “নাটো চুক্তির ৫ম ধারা এটাই বলে। তবে ভাবা হয়নি যে আক্রমণকারী দেশ নিজেই ন্যাটো সদস্য হবে।”

মার্কিন সেনেটর রুবেন গ্যালেগো (ডি-অ্যারিজোনা) মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, তিনি কংগ্রেসে একটি প্রস্তাবনা আনা করবেন, যাতে ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ থেকে বাধা দেওয়া যায়। তিনি বলেন, “জাগো সবাই। ট্রাম্প আমাদের স্পষ্টভাবে জানাচ্ছেন, তিনি কী করতে চান। আমাদের তাকে থামাতে হবে, অন্যথায় আরেকটি দেশে আকস্মিক আক্রমণ ঘটাতে পারেন।”