আনিস আলমগীর পাঁচ দিনের রিমান্ডে

উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাস বিরোধ আইনের মামলায় জেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই শামীম হোসেন রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার ইন্সপেক্টর মুনিরুজ্জামান তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, “আনিস আলমগীর এক মাস আগে বেসরকারি টিভির এক টকশোতে মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের অপ্রকাশিত নেতারা সরকারকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। আসামি মেহের আফরোজ শাওন তার ভেরিফায়েড ফেইসবুকে এ বছরের ২৬ নভেম্বর লকারের লকার উদ্ধারের ঘটনায় কটাক্ষ করে সরকারবিরোধী পোস্ট দেন। তিনি বলেন, একেবারে তেলেসমাতি কারবার। আসামি ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ তার ভেরিফাইড ফেইসবুক আইডিতে লকার উদ্ধারকে ‘এটাই সায়েন্স’ বলে কটাক্ষ করে। এ ছাড়াও এই চার আসামিসহ অন্য আসামি পরস্পর যোগসাজশে অন্যদের বিভিন্ন সময়ে তাদের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল হতে বিভিন্ন প্রকার উসকানিমূলক পোস্ট ও বক্তব্য দিয়ে দেশের জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, অন্য ব্যক্তিকে হত্যার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা এবং অন্য ব্যক্তিকে হত্যা-গুরুতর জখম করার ষড়যন্ত্র ও সহায়তা করার জন্য প্ররোচিত করে।”

“আনিস আলমগীরকে ডিবি লালবাগ বিভাগ ধানমন্ডি এলাকা হতে গ্রেপ্তার করে। সময় স্বল্পতার কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। আসামির সহযোগী অন্যান্য পলাতক আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। ঘটনায় আরও কোন আসামি জড়িত আছে কি না তা জানার জন্য আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।”

রিমান্ডের শুনানিতে আনিস আলমগীরকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এই সাংবাদিকদের রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আনিস আলমগীরের পক্ষে তার আইনজীবী নাজনীন আক্তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

এর আগে আনিস আলমগীরকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানায় উত্তরা বিভাগের উপ কমিশনার শাহরিয়ার আলী।উপ কমিশনার শাহরিয়ার আলী বলেন, “মামলা হয়েছে, আনিস আলমগীরকে আমরা গ্রেপ্তার দেখিয়েছি।” উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী মোহাম্মদ রফিক আহমেদ বলেন, “সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এই মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।”

এই মামলায় আরও তিন আসামি হলেন-অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রোববার রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ আনেন। তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় অভিযোগ দেন। এই অভিযোগই মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করার তথ্য দেয় পুলিশ।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে। কিন্তু তার অনুসারীরা দেশের মধ্যে বিভিন্ন কৌশলে ঘাঁপটি মেরে অবস্থান করে দেশের অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করে আসছে। আসামিরা আগে থেকে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় রয়েছে। তারা গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকে সোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরে আনার জন্য প্রপাকান্ডা ছড়িয়ে আসছে।

“রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিয়ান আহমেদ উত্তরা পশ্চিম থানার ১১নং সেক্টরস্থ ৫নং রোডের ৫নং বাসায় বসে মোবাইলে দেখতে পান, আসামিরা ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুর্নবাসন করার পাঁয়তারা করছে। তাদের বিভিন্ন পোস্টের ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্র বিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছে।”

আনিস আলমগীর দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে তার বক্তব্যের কারণে সম্প্রতি আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন তিনি। ফেইসবুকে দেওয়া তার বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা চলছে বেশ কয়েকদিন ধরে।