রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঢাকায় ৩ জন, গাজীপুরে ১ জন, নারায়ণগঞ্জে ১ জন এবং নরসিংদীতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সারাদেশে সাড়ে চারশোর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। এদিন ভূমিকম্পে সারা দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলীতে ৫ তলা ভবনের রেলিং ধসে ৩ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল হোসেন কালবেলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।নিহতরা হলেন—সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (মিটফোর্ড) ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম, হাজি আব্দুর রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (১২)। তিনজনের মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ করে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে তিন পথচারী ঘটনাস্থলে নিহত হন। তারা সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন।
নরসিংদী জেলার তিনটি উপজেলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী ও ঘোড়াশাল মধ্যেবর্তী এলাকা থেকে এ ভূকম্পের উৎপত্তি হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। নিহতরা হলেন—নরসিংদী শহর তলীর গাবতলী এলাকার হোসেন (৩৭) ও তার শিশু ছেলে ওমর ফারুক (১০), পলাশ উপজেলার কাজম আলী ভূইয়া (৭০) ও ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিন (৫০) এবং শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আসকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া (৪০)। নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর খবর আমি অবগত নই। আমি শুনেছি দেলোয়ার হোসেন আইসিইউতে রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নবজাতকের মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। মৃত ফাতেমা গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকার আব্দুল হকের মেয়ে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ভূমিকম্পের সময় ঘটনাস্থলে হয়ে ভুলতা গাউছিয়া যাওয়ার সময় সড়কের পাশের দেয়াল ধসে নবজাতক ফাতেমা, তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমের ওপর পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে তারা দেয়ালের নিচ থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় নবজাতকের মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমকে উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নবজাতকের মা ও প্রতিবেশী গুরুতর আহত হয়েছেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নে ভূমিকম্পের গাছ থেকে পড়ে গিয়ে সুজিৎ দাস (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গাছ থেকে পড়ার পর তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া শাদেরগাঁও জামে মসজিদের দুটি গম্বুজ কাত হয়ে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেছে। নবনির্মিত সাদেরগাঁও চারতলা বিশিষ্ট স্কুলে বেশ কয়েকটি ফাটল দেখা গেছে।
এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে বলেন, এই মুহূর্তে হতাহত এবং ক্ষতিক্ষতি নিরূপণ করাই আমাদের প্রধান কাজ। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার বা ডেবরিস ম্যানেজমেন্টের চ্যালেঞ্জটা আমরা এখনো ওই মাত্রায় দেখছি না। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৪৬১ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।