বিশ্বজুড়ে চীনের ঋণ কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় গ্রহীতা হলো যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজুড়ে চীনের ঋণ কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় গ্রহীতা হলো যুক্তরাষ্ট্র — এমনটাই দেখা গেছে একটি গবেষণায়। বেইজিংয়ের ঋণদানের ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশটি এখন ক্রমশ উন্নয়নশীল দেশের বদলে উচ্চ-আয়ের দেশগুলোকে আরো বেশি ঋণ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার এডডাটার তৈরি করা গবেষণা প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২০০টি দেশে চীনের ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের অন্যতম ঋণদাতা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এখন দেশটি উন্নত অর্থনীতিগুলোকে আরো বেশি ঋণ দিচ্ছে— বিশেষ করে কৌশলগত অবকাঠামো, উচ্চ-প্রযুক্তির সরবরাহ চেইন, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে। এডডাটা জানিয়েছে, পূর্ববর্তী অনুমানের তুলনায় বেইজিংয়ের ঋণ পোর্টফোলিওর আকার দুই থেকে চার গুণ বড়। চীন এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকারি ঋণদাতা।

রিপোর্টের বিষয়ে মন্তব্য চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থায়ন ‘আন্তর্জাতিক রীতি, বাজার নীতি ও ঋণ স্থায়িত্বের নীতি মেনে’ পরিচালিত হয়। এখন চীনের বিদেশি ঋণ কার্যক্রমের তিন-চতুর্থাংশের বেশিই যাচ্ছে উচ্চ-মধ্যম আয়ের ও উচ্চ-আয়ের দেশগুলোতে।

এডডাটার নির্বাহী পরিচালক ও রিপোর্টের প্রধান লেখক ব্র্যাড পার্কস বলেন, ‘ধনী দেশগুলোতে যেসব ঋণ দেওয়া হচ্ছে তার বড় অংশই যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ এবং সেমিকন্ডাক্টর কম্পানির মতো উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পদের অধিগ্রহণে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সরকারি খাতের ঋণের তালিকায় সবচেয়ে ওপরে রয়েছে— প্রায় আড়াই হাজার প্রকল্প ও কর্মকাণ্ডের জন্য দেশটি পেয়েছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন। এডডাটা বলেছে, চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিটি প্রান্ত ও প্রতিটি খাতে’ সক্রিয়— টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় এলএনজি প্রকল্প, নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় ডেটা সেন্টার, নিউ ইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণ, ম্যাটারহর্ন এক্সপ্রেস প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন এবং ডাকোটা অ্যাকসেস তেল পাইপলাইন— সবকিছুর পেছনেই রয়েছে চীনা অর্থ।

বেইজিং উচ্চ-প্রযুক্তি কম্পানি অধিগ্রহণেও অর্থায়ন করেছে, আর চীনা রাষ্ট্রীয় ঋণদাতারা অ্যামাজন, এটিঅ্যান্ডটি, ভেরাইজন, টেসলা, জেনারেল মোটরস, ফোর্ড, বোয়িং ও ডিজনির মতো অনেক ফর্চুন ৫০০ কম্পানিকে ঋণ সুবিধা দিয়েছে।২০০০ সালে যেখানে চীনের ঋণের ৮৮ শতাংশ যেত নিম্ন-আয় ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১২ শতাংশে। একই সময়ে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এ অবকাঠামো ঋণও কমিয়ে দিয়েছে বেইজিং।

অন্যদিকে মধ্যম ও উচ্চ-আয়ের দেশগুলোর জন্য ঋণের অংশ ২০০০ সালের ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে হয়েছে ৭৬ শতাংশ। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাজ্য পেয়েছে ৬০ বিলিয়ন ডলার আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন পেয়েছে ১৬১ বিলিয়ন ডলার।