বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষিত নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্ববান

যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কারলাইল অব বেরিউ সিবিই কেসি ৬ নভেম্বর বৃহস্প্রতিবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষিত নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্ববান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আইনের শাসন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশেষ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের নামে অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা হবে খুবই দু:খজনক। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমান ব্যবস্থা “তাৎক্ষণিক সংস্কারের প্রয়োজন” যাতে এটি আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছায়। তার মতে, বিচার প্রক্রিয়া হতে হবে “স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সংবিধান ও আইনের প্রতি কঠোরভাবে অনুগত।”

লর্ড কারলাইল বলেন, ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য “গুরুতর চ্যালেঞ্জ” তৈরি করেছে। বিএনপিকে দূরে সরিয়ে রেখে শেখ হাসিনা অতীতে যেভাবে নির্বাচন করেছেন সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, “আগামী নির্বাচন যেন অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়। এটি অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু হওয়া জরুরি এবং আন্তর্জাতিক স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।”
সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইন পর্যালোচনার সাবেক স্বাধীন উপদেষ্টা এই ব্রিটিশ আইনজীবী আরও বলেন, বাংলাদেশের সকল শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনরুজ্জীবনে অংশ নিতে হবে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লর্ড কারলাইল বলেন, তাদের রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উভয়ের কাছ থেকেই সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আইনের শাসন অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে ন্যায়বিচার, সমতা এবং জনগণের সুরক্ষার ওপর।”