নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহারান মামদানি-র প্রচারণা তীব্র গতিতে এগোচ্ছে। রোববার কুইন্সের একটি টেনিস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ (এওসি)। সমাবেশে বক্তারা বলেন, মামদানি নির্বাচিত হলে তা হবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সূচনা। এওসি বলেন, “আমরা এমন এক সময়ে একত্রিত হয়েছি, যা আমাদের দেশের জন্য বিপজ্জনক, কিন্তু শহরের জন্য আশার এক নতুন সূচনা। মামদানির বিজয় স্পষ্ট বার্তা দেবে ট্রাম্পকে যে নিউইয়র্ক বিক্রির জন্য নয়।”
তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে “দুর্নীতি ও বৈষম্যে ভরা এক স্বৈরাচারী সরকার” বলে অভিহিত করেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মামদানি বলেন, “আমরা এমন এক সরকার চাই, যারা বড় সংকটকে ভয় পাবে না এবং ছোট সমস্যাকেও উপেক্ষা করবে না। আমাদের দরকার সাহসী সরকার, যা ভবিষ্যৎ গড়তে জানে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ভোটে যেমন দ্রুত এগিয়েছি, অ্যান্ড্রু কুওমো তত দ্রুত ট্রাম্পকে ফোন দিতে পারেননি।” মামদানি জোর দিয়ে বলেন, এই নির্বাচন শুধু মেয়র পদ নয়—এটি সাধারণ মানুষের শক্তি প্রদর্শনের এক নতুন যুগের সূচনা, যেখানে ধনীদের রাজনীতি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

সমাবেশে মামদানি সাম্প্রতিক সময়ে তার মুসলিম পরিচয় নিয়ে চলা ‘বর্ণবাদী ও ভিত্তিহীন’ আক্রমণকে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম নীরব থাকলে বা ভদ্রভাবে প্রতিক্রিয়া জানালে বিষয়টি থেমে যাবে। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম—বর্ণবাদীরা কখনো থামে না।”
মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হতে পারেন।
নির্বাচনে মামদানি’র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। সাম্প্রতিক জরিপে মামদানি ১০-২০ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল এবং কংগ্রেস নেতা হাকিম জেফরিস মামদানির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। হকুল সমাবেশে বলেন, “ট্রাম্প আমাদের মূল্যবোধ, মানুষ ও অগ্রগতির ওপর আঘাত করছেন। মামদানিই সেই নেতা, যিনি এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতির জবাব দিতে পারেন।”
সমাবেশে উপস্থিত জনতা বারবার স্লোগান দেয়—“ধনীদের ওপর কর বাড়াও!”
সমাবেশের শেষ মুহূর্তে মামদানি বলেন, “নিউইয়র্ক এক সময় ডানপন্থী হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আমরা এক নতুন পথ বেছে নিয়েছি—পিছু হটিনি, লড়েছি। এবং এই লড়াইয়ের ফল আমরা ৪ নভেম্বর দেখব।”