আজ, ১৭ মার্চ ২০২৬, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মদিন। তিনি ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতা সায়েরা খাতুন। শেখ মুজিবুর রহমান ছোটবেলা থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কৈশোরেই তিনি রাজনৈতিক সচেতনতা অর্জন করতে থাকেন এবং দেশের স্বাধীনের জন্য নানা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তার রাজনীতিক জীবনের শুরুতেই তিনি কারাবরণ করেন। এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে একজন প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পথে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে উজ্জীবিত করে। পাকিস্তানি সেনারা ২৫ মার্চ রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশীয় একটি অভ্যুত্থানে আততায়ীদের গুলিতে তিনি সপরিবারে নিহত হন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অম্লান অধ্যায় হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
এরপর থেকে তাঁর জন্মদিন বিভিন্ন সময়ে নানা আঙ্গিকে উদযাপিত হয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপনের প্রচলন ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে। তৎকালীন সময়ে সরকারি, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে দিনটি পালন করা হতো। তবে গত দুই বছরে বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া দিবসটি কাটানো হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা আয়োজন করে থাকে। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, স্বাধীনতার জন্য তার ত্যাগ ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপিতার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন শুধু একজন নেতার জন্মদিন নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, জাতীয় ঐতিহ্য ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও গণ্য হয়। দেশের বিভিন্ন প্রজন্ম এদিন বঙ্গবন্ধুর দর্শন, রাজনীতি ও আদর্শ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী থাকে।