মামদানি, কুওমো ও স্লিওয়া — নিউইয়র্ক মেয়র প্রার্থীদের শেষ বিতর্কে তীব্র বাকযুদ্ধ

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনের শেষ বিতর্কে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ঝোহারান মামদানি, সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো ও রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়ার মধ্যে দেখা গেল তীব্র মুখোমুখি লড়াই ও কটাক্ষের ঝড়।ফ্রন্টরানার মামদানিকে তার তুলনামূলক স্বল্প রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, অন্যদিকে স্লিওয়া চেষ্টা করেন নিজেকে যোগ্য ও “গম্ভীর প্রার্থী” হিসেবে উপস্থাপন করতে। কুওমো আবার মুখোমুখি হন সেই যৌন হয়রানির অভিযোগের, যা তাকে গভর্নরের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছিল।

বিতর্কের শুরুতে মামদানি প্রতিদ্বন্দ্বীদের “লড়াইয়ে আসক্ত” বলে অভিযুক্ত করে জানান, তিনি নিউইয়র্কবাসীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জীবনযাত্রার ব্যয়যোগ্যতা নিয়ে কাজ করতে চান। কিন্তু পরে তিনিও কটাক্ষের পাল্লায় যোগ দেন— এমনকি কুওমোর এক অভিযোগকারী, সাবেক সহকারী শার্লট বেনেটকেও তিনি দর্শকসারিতে উপস্থিত রাখেন।

মামদানি বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের নীতি নিয়ে না ভেবে একে অপরকে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান দিতেই বেশি সময় ব্যয় করেন।” কুওমো ও স্লিওয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “তারা অতীত নিয়েই কথা বলেন, কারণ ওটাই তাদের সব জানা।” তিনি আরও যোগ করেন, “অ্যান্ড্রু কুওমো একজন মরিয়া মানুষ — তিনি জানেন ক্ষমতা তার হাতছাড়া হচ্ছে।” কুওমো পাল্টা জবাবে বলেন, “তুমি কখনো কোনো চাকরি করোনি, কোনো অর্জনও নেই তোমার। দেশের সবচেয়ে বড় শহর চালাতে যে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা দরকার, তা তোমার নেই।”

অন্যদিকে স্লিওয়া কটাক্ষ করে বলেন, “ঝোহারান, তোমার রিজিউমে একটি ককটেল ন্যাপকিনেই ফিট হবে, আর অ্যান্ড্রু — তোমার ব্যর্থতা দিয়ে পুরো নিউইয়র্কের একটি পাবলিক লাইব্রেরি ভরে ফেলা যাবে।” তিনি কুওমোর পদত্যাগ-ঘটনার দিকেও ইঙ্গিত করেন, যা যৌন হয়রানির অভিযোগের পরিণতি ছিল। যদিও বিতর্কের বেশিরভাগ সময় দখল করে নেয় জাতীয় রাজনীতি — ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ ও ট্রাম্প ইস্যু — তবুও সঞ্চালকরা প্রার্থীদের শহরের অপরাধ, সাবওয়ে নিরাপত্তা ও কুখ্যাত রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগার বিষয়ে মতামত দিতে বাধ্য করেন।

মামদানিকে সমালোচিত হতে হয়, কারণ তিনি নভেম্বরের ব্যালটে থাকা কিছু প্রস্তাবনা নিয়ে অবস্থান জানাননি। তবে তিনি বলেন, মেয়র হলে বর্তমান পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে তিনি পদে রাখবেন। অতীতে পুলিশের সমালোচক হলেও সম্প্রতি মামদানি তার অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন। তিন প্রার্থীই ম্যানহাটনের ক্যানাল স্ট্রিটে অভিবাসী বিক্রেতাদের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক অভিযানের নিন্দা জানান, যেখানে ১৪ জন গ্রেপ্তার হন।

কুওমো বলেন, “এই শহরে জীবনযাত্রা-সংক্রান্ত অপরাধ মোকাবেলায় ফেডারেল আইস (ICE) এজেন্টদের দরকার নেই।” মামদানিও যোগ করেন, “আইস হলো বেপরোয়া সংস্থা, যারা আইন বা জনগণ— কারও প্রতিই দায়বদ্ধ নয়।”

তিন প্রার্থীই ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে একে অপরকে লক্ষ্যবস্তু বানান।কুওমো দাবি করেন, তিনি কোভিড মহামারির সময় ট্রাম্পকে সামলে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, “যদি মামদানি জেতে, সেটা ট্রাম্পের জন্য স্বপ্নের মতো হবে। ট্রাম্প তাকে গুরুত্ব দেয় না, মনে করে সে কেবল একটা বাচ্চা।”

মামদানি পাল্টা বলেন, “ট্রাম্প অ্যান্ড্রু কুওমোকে মেয়র হিসেবে চায়, কারণ তা নিউইয়র্কের জন্য নয়, বরং তার নিজের জন্য ভালো হবে।” স্লিওয়া উভয়কেই সতর্ক করে বলেন, “ট্রাম্পকে শত্রু বানিয়ে নিউইয়র্ক চালানো সম্ভব নয়।” বিতর্ক জুড়েই কুওমোর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলা হয়। মামদানি উল্লেখ করেন, অভিযোগকারী শার্লট বেনেটও সেই রাতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “আপনি ১৩ জন নারীর কাছে কী বলবেন, যাদের আপনি যৌন হয়রানি করেছেন?”

কুওমো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারে থাকতে হলে পরিপক্ব হতে হয়, সিরিয়াস হতে হয়।” বিতর্ক শেষে কয়েকজন প্রার্থী রসিকতা করে বলেন, “সম্ভবত অনেক নিউইয়র্কবাসী এখন এই বিতর্কের চেয়ে নিক্সের মৌসুমি প্রথম খেলা দেখতে বেশি আগ্রহী।” কুওমো শেষ পর্যন্ত খেলার দ্বিতীয়ার্ধে যোগ দেন, যেখানে তাকে বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়।