নিউইয়র্কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কলাম্বিয়া কাউন্টি জেলার ক্ল্যাভারাক এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সোমবার, ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা প্রায় সাতটার দিকে রাজ্য সড়ক ৯এইচ-এর ভ্যান ওয়াইক লেন সংলগ্ন স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, লাউডনভিল এলাকার বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল একটি ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে উত্তরমুখী যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা। তারা নিউইয়র্ক নগরী থেকে অ্যালবানি শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।

হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝের বিভাজনরেখা অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক নাজমুল রুবেল। তার সঙ্গে থাকা ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী বন্ধু ফাহিম হালিমও ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর গাড়ির ৬২ বছর বয়সী এক নারী যাত্রীও একই স্থানে প্রাণ হারান।

নিহতদের পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ আজমুল রাব্বি জানান, এই দুর্ঘটনা তাদের পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে। এক রাতেই তিনি হারিয়েছেন তার বড় ভাই, বাবা এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন সদস্যকে। তার ভাষায়, “একটি ফোন কলেই সবকিছু শেষ হয়ে গেল।”

দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হন। ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অ্যালবানি শহরের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে, তবে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। এছাড়া গাড়িতে থাকা এক বছর বয়সী শিশুকন্যা ইকরা আয়াতকে আকাশপথে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সে এখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা গুরুতর।

অপর গাড়ির ২৪ বছর বয়সী চালক আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর পুরো সমাজ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। যারা কিছুক্ষণ আগেও একসাথে যাত্রা করছিলেন, হাসছিলেন—তাদের জীবন এক মুহূর্তেই থেমে গেছে। এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, জীবনের অনিশ্চয়তা কতটা নির্মম হতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। কীভাবে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিভাজনরেখা অতিক্রম করল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। নিহতদের জানাজার নামাজ ৮ এপ্রিল, বুধবার যোহরের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।